Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Don't Miss
Home / Featured / পুনরায় আইইএলটিএস (IELTS) দেয়ার ক্ষেত্রে করনীয়

পুনরায় আইইএলটিএস (IELTS) দেয়ার ক্ষেত্রে করনীয়

Share This:

যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্যে প্রবল বাসনা মনে লালন করে থাকেন তাদের একটি বড় অংশ আইইএলটিএস (IELTS) এর দিকে ঝুঁকে যাবার একটি প্রবণতা বরাবরের মতোই থেকে থাকে। ভালো কোনো দেশে এবং ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে স্কলারশিপের জন্যেও এই আইইএলটিএস এর স্কোর একটি বিরাট ভূমিকা রেখে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কাঙ্ক্ষিত দেশের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্যে যে পরিমাণ স্কোর প্রয়োজন, অনেক শিক্ষার্থীই সে স্কোর করতে অনেক কারণেই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। সেসব শিক্ষার্থীদের জন্যে তখন একটিই পথ খোলা থাকে, আর সেটি হচ্ছে পুনরায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দেয়া। আজকে আলোচনা হচ্ছে সেসব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে, যারা পুনরায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দেবার কথা ভেবে চলেছেন।

চলুন দেখে নেয়া যাক আইইএলটিএস পরীক্ষার পুনরায় দেবার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখাটা ভালো সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।

স্কোর কম হলেও আপনার অন্য বিষয়গুলো সে ঘাটতি পূরণে সক্ষম কিনা দেখে নিন

হয়তো আপনি একবার আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক স্কোর আশানুরূপ হয়নি। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আইইএলটিএস পরীক্ষা পুনরায় দেবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে যাবেন না। যে দেশে এবং যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আপনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আবেদন পাঠাচ্ছেন, তাদের চাহিদাগুলো সম্পর্কে সর্বপ্রথমে সঠিকভাবে জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। তাদের সে চাহিদার তালিকার মধ্যে যদি আপনার অর্জনকৃত স্কোরও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে নতুন করে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে যে বিষয়ে পড়তে চাইছেন সে বিষয়ের দিকে আলোকপাত করাটিই উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশী সহায়ক হবে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আইইএলটিএস স্কোর কম হলেও আপনার ইউনিভার্সিটি কোর্সের সিজিপিএ যদি ভালো হয়, তখন সেটিতে আইইএলটিএস এর স্কোর কম এর ঘাটতিটুকু অনেকটাই পুষিয়ে যায়। এ বিষয়টিও পুনরায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দেবার পূর্বে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

কোন কোন কারনে গতবার আপনার স্কোর আশানুরুপ হয়নি তা বের করুন

আইইএলটিএস পরীক্ষায় আপনার স্কোর কতটুকু পরিমাণ ভালো আসবে সেটি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়ে থাকে। প্রথমত, আপনি আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে যে স্কোরটি আশা করেছিলেন সে স্কোরটি অর্জনের লক্ষ্যে যতটুকু পরিমাণ সময় আপনার পড়াশোনার জন্যে বরাদ্দ রাখাটা প্রয়োজন ছিল সে পরিমাণ সময় দেয়া হয়েছিল কিনা সেটি মূল্যায়ন করুন।

যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ইতোপূর্বে আপনি আইইএলটিএস সম্পর্কিত পড়াশোনার সাথে দিয়ে থাকেন, তবে ভাবুন আপনি ঠিকঠাক বইপত্র বা রেফারেন্স দিয়েই পড়াশোনা করেছিলেন কিনা। যদি সেটি না হয়ে থাকে, তবে পুনরায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দেবার ক্ষেত্রে আপনার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে এই বিষয়টির দিকে সর্বপ্রথমেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। আইইএলটিএস সম্পর্কিত পড়াশোনার জন্যে সবচেয়ে ভাল রেফারেন্স হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর নাম বলা যেতে পারে। আইইএলটিএস সম্পর্কিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী।

ইতিবাচক চিন্তা করতে অভ্যস্ত হোন

পূর্বে যেহেতু আপনার আইইএলটিএস এর ফলাফল আশানুরূপ হয়ে ওঠেনি, সেক্ষেত্রে নতুন করে পুনরায় পরীক্ষা দেবার ক্ষেত্রে কিছুটা উদ্যমহীনতা কাজ করাটা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তাই নতুন করে যখন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন তখন চেষ্টা করবেন ইতিবাচক চিন্তায় অভ্যস্ত হবার। এতে করে আপনার উদ্যমে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট কম থাকবে। সেক্ষেত্রে নিজেকে ইতিবাচক বাক্য নিজের মুখে উচ্চারণ করে শোনাতে পারেন।

বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা প্রত্যহ নিজেদের বিভিন্ন ইতিবাচক বাক্য (বা অটোসাজেশন) নিজের মুখেই উচ্চারণ করে শোনাতে অভ্যস্ত। তাদের প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সেই অটোসাজেশনটি একটি সময়ে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়ে থাকে। তাই আইইএলটিএস সংক্রান্ত কিছু ইতিবাচক কথা বা অটোসাজেশন তৈরি করে সেটি যদি প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে একবার করে বলা অভ্যাস তৈরি করতে সক্ষম হন, তবে সেটি আপনাকে ইতিবাচক রাখার ক্ষেত্রে শক্তিশালী টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রশংসা অর্জনের চেষ্টা করুন

অর্জন যেমনই হোক, অন্যদের সামান্য একটু প্রশংসা তার চাইতেও বড় কোন অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের উৎসাহিত করে থাকে। এটি মানুষের স্বাভাবিক একটি প্রবৃত্তি। আপনি চাইলে এ প্রবৃত্তিকেও আপনার আইইএলটিএস এর ফলাফল উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এমন একজনকে খুঁজে বের করুন, যিনি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আপনার সকল ছোট বড় অর্জনের প্রশংসা করতে কখনো কার্পণ্যতা করেন না।

এ ধরনের ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে আপনার কোর্স টিচারকে। কেননা তিনিই হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আপনার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আপনার ছোট বড় সকল অর্জনে তিনি আপনার প্রশংসা করে আপনাকে উৎসাহিত করবেন ঠিকই, কিন্তু কোন অহেতুক উৎসাহ প্রদান তিনি কখনো করবেন না। এতে করে আপনার নিজের উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভুল পথে পরিচালিত হবার সম্ভাবনাও বেশ কম থাকবে।

শত কিছুর পরেও নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখুন

আইইএলটিএস পরীক্ষা পুনরায় দিতে যাবার আগে এ ব্যাপারটিও একবারের জন্যে ভাবার চেষ্টা করুন যে কেন আপনি আইইএলটিএসপরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রথমে নিয়েছিলেন। এটি কি আপনার সেই স্বপ্নের চাকরি পাবার ক্ষেত্রে সহায়ক? নাকি আপনার পরিবারের একটি নির্ভরযোগ্য শক্ত অবলম্বন হবার ক্ষেত্রেও আইইএলটিএস পরীক্ষা দেয়াটা আপনার জন্যে জরুরী? নাকি শুধুমাত্রই উচ্চশিক্ষার জন্যে বিদেশে পাড়ি দিতে চান বলে আইইএলটিএস এর একটি ভালো স্কোর আপনার প্রয়োজন?

মোটকথা আপনার পুনরায় আইইএলটিএস পরীক্ষা দেয়ার পেছনে কারণ যাই হোক না কেন, সেটি যেন কখনোই এমন না হয়ে যায় যে আপনার জীবনে মূল লক্ষ্যের ক্ষেত্রে এই আইইএলটিএস পরীক্ষার কোন ভূমিকা নেই। সুতরাং এক্ষেত্রে পা বাড়ানোর আগে কিছুটা হিসেব নিকেশ করে রাখা জরুরী।

এই ছিল আইইএলটিএস সংক্রান্ত এমন কিছু কথাবার্তা, যা দ্বারা যারা পুনরায় আইইএলটিএস দেয়ার কথা ভাবছেন তারা কিছুটা হলেও হয়তো উপকৃত হবে। তাদের উদ্দেশ্যে শেষে ছোট একটি বাক্য বলা যেতে পারে ‘Think positive’। হতে পারে শুধুমাত্র এই একটি মাত্র বাক্যই তার জীবনকে অন্য একটি মাত্রায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।

 

 

Share This:

Submit Your Comments

x

Check Also

মালয়েশিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুন ফেব্রুয়ারী সেমিষ্টার ২০২০ থেকে

মালয়েশিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুন ফেব্রুয়ারী সেমিষ্টার ২০২০ থেকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ...