Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home / Featured / যে ৭টি কারণে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যেতে পারেন

যে ৭টি কারণে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যেতে পারেন

Share This:

কানাডা উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ। দশটি প্রদেশ ও তিনটি অঞ্চল আটলান্টিক থেকে প্যাসিফিক এবং উত্তরে আর্কটিক সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এটিকে মোট আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর দেশে পরিণত করেছে। এছাড়াও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে একটি।

"why study in canada"উন্নতমানের জীবনযাপন এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বের সেরা স্থানগুলোর একটি বলে গণ্য করা হয় কানাডাকে। কানাডায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অসংখ্য। বরং বলা যেতে পারে যে, বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সব কানাডার বিভিন্ন অংশ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

প্রতি বছর কানাডা সরকার প্রায় ২৫০,০০০–৩০০,০০০ আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীকে কানাডার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিয়ে থাকে। সেই সাথে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ এবং বসবাসের সুবিধা দিয়ে থাকে। এই কারণেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় দেশ। বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের বহু ছাত্রছাত্রী কানাডার বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাড়ি জমাচ্ছে।

ইউনাইটেড ন্যাশনের (UN) তরফ থেকে, সম্প্রতি কানাডা কে বিশ্বের সেরা স্থান গুলোর মধ্যে একটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এবং এই মূল্যায়ন করা হয়েছিল উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য এবং সঠিক পরিবেশ, উচ্চমানের জীবনযাত্রা, জাতীয় এবং প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় ইত্যাদির উপরে। এজন্য উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রথম পছন্দের একটি দেশ কানাডা।
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। সংখ্যাটা প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত জীবন যাত্রার মান আর পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ থাকায় তরুণ শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশটি। গত ৮/১০ বছর ধরে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে পাড়ি জমাচ্ছে।

ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পড়াশোনায় এখানে রয়েছে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল, পিএইচডি কোর্স। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরো রয়েছে কো-অপারেটিভ এডুকেশন, ডিসট্যান্ট লার্নিং, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো আরো অনেক কোর্স ও পদ্ধতি। এখানে শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা রয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ফুড সায়েন্স, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, এগ্রিকালচার, ইকোনোমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনোমিক্স, মিউজিক, ফিলোসফি, হিস্ট্রি অ্যান্ড রিলিজিওন, ইংলিশ, ল, থিয়েটারসহ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় দশ হাজার বিষয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয়ে পড়তে পারবেন।

১। দুটি ভাষায় পড়ালেখা করার সুযোগ

ইংরেজি এবং ফরাসি যৌথভাবে কানাডার সরকারি ভাষা। এজন্য কানাডার প্রায় সব ইউনিভার্সিটি গুলোতেই ইংরেজি এবং ফ্রেঞ্চ, এই দুইটি প্রধান ভাষায় পড়াশোনা করা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ভাষায় ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। ভর্তির শুরুতেই ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই করার জন্য আইএলটিএস বা টোফেল স্কোরএর প্রয়োজন হয়। যেমন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স করবার জন্য নূন্যতম আইএলটিএস স্কোর ৬.৫ এবং আন্ডার গ্রাজুয়েশনএর জন্য নূন্যতম আইএলটিএস স্কোর ৬ এর প্রয়োজন।

এছাড়া বিজনেস শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিম্যাট এ ভালো স্কোর থাকা প্রয়োজন। তবে কোন ভাষায় শিক্ষার্থী পড়তে ইচ্ছুক তা আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ফ্রেঞ্চ ভাষায় পড়তে চাইলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এখানে ছাত্রছাত্রীরা চাইলে ফুলটাইম অথবা পার্ট টাইম দুই ভাবেই পড়াশুনা করতে পারবে।

২। উন্নত মানের শিক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্বের স্বনামধন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার একটি বিরাট অংশজুড়ে থাকে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দেশটিতে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়া, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া, ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো ও কুইনস ইউনিভার্সিটির মতো সব নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ প্রকাশিত বিশ্ব র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০% এরও বেশি কানাডিয়ান রিসার্চ স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানকার ডিগ্রিসমূহ বিশ্বমানের তো বটেই, আমেরিকা এবং কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিরও সমতুল্য। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডিগ্রি আপনাকে চাকরির বাজারে অধিকতর যোগ্য বলে উপস্থাপন করবে। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ার গঠনে যা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। সেইসাথে পড়াশোনা শেষে সেদেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়ে যায়।

দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা তাত্ত্বিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রায়োগিক অভিজ্ঞতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের কাজে নিয়োজিত।

টাইমস হাইয়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির  রেটিং ২০১৮ অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটি কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে স্কলারশিপের সুযোগ। কানাডার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলো শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।

৩। কাজের সুযোগ

কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। সপ্তাহে একজন শিক্ষার্থী ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। শিক্ষক, সহকারী, বিক্রয় কর্মী, ফুড ক্যাটারিং, বিক্রয় কর্মী, গবেষণা সহকারী ইত্যাদি বিভিন্ন খন্ডকালীন কাজের সু্যোগ রয়েছে।

৪। ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা

কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা। এছাড়া কানাডায় এক  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়।

গ্র্যাজুয়েট এবং আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে মূলত ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। তবে ক্রেডিট ট্রান্সফার কত শতাংশ করা যাবে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শর্তারোপ করে।

৫। সংস্কৃতি

কানাডা একটি বহু সংস্কৃতি সম্পন্ন দেশ। কানাডায় প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ হতে প্রচুর বিদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিতে আসেন। যেহেতু পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে অনেকেই পড়তে আসেন, আবার বিভিন্ন দেশের প্রচুর অভিবাসী এখানে বসবাস করেন, সেক্ষেত্রে নানা রকম মানুষের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ থাকে। যার ফলে অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক এবং নিয়ম নীতি সম্পর্কে জানা যায়।

এছাড়াও কানাডার নাগরিকেরা বন্ধুবৎসল। তাই তাই তাদের সাথে মেলামেশা এবং ধারনা বিনিময় করা সহজ।

৬। নিরাপদ দেশ

উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ কানাডা। গ্লোবাল পেস ইনডেক্সের বার্ষিক জরিপ অনুযায়ী, কানাডা অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানেই দেশটির সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশটিতে বেকারত্বের হারও অনেক কম, মাত্র ৬.৬ শতাংশ। ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সূচকে প্রবাসীরা কানাডাকে তালিকার উপরের দিকেই রেখেছেন। অপরাধের নিম্ন হারের কারণেই প্রবাসীরা দেশটিকে পছন্দ করেন।

এছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের দেশসমূহে দুর্নীতি যেমন লক্ষণীয় ভাবে বিদ্যমান সেই তুলনায় কানাডা বাস্তবিক অর্থেই দুর্নীতিমুক্ত। বিশ্বে কানাডিয়ানরা সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য বিশেষভাবে স্বীকৃত।

৭। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ

শুধু চাকরি, পড়াশোনা বা অভিবাসন নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্যও পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য এটি। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দেশ বাছাইয়ের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করেছিল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পত্রিকা রাফ গাইড। কোন দেশ ভ্রমণ করতে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন সেটার উপর নির্ভর করে তারা প্রকাশ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দেশের তালিকা। পর্যটন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সভ্যতা, আবহাওয়া, ঐতিহাসিক গুরুত্বসহ আরও বেশকিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কানাডা।

পূর্বে আটলান্টিক ও পশ্চিমে প্যাসিফিক এই দুটি মহাসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাসহ আরো বহু কিছুই আছে দেশটিতে দেখার মতো। আছে নদী, আছে সুবিশাল বন। অন্টারিওর উত্তরে আছে হাডসন উপসাগর। চার ঋতুতে কানাডার রূপ বদলায় চার রকম। তীব্র শীত থেকে তীব্র গরম সবই অনুভব করা যায় এখানে।

পশ্চিমের সুদর্শন শহর ভেঙ্কুভার, মন্ট্রিয়লের ওল্ড সিটি, কুইবেকের রাজধানী কুইবেক সিটিসহ অন্যান্য শহরগুলোর প্রত্যেকটির রয়েছে আলাদা আলাদা বৈচিত্র্য।

কানাডায় কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে হলে প্রথমেই আসে নায়াগ্রা ফলস’এর কথা। কানাডায় এবং পৃথিবীতেও সবচেয়ে বিখ্যাত কয়েকটি প্রাকৃতিক আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে এই নায়াগ্রা ফলস অন্যতম।

এছাড়াও পর্যটকদের আকর্ষণের আরেকটি কেন্দ্রবিন্দু হলো রকি পর্বতমালা। এখানকার একটি অনন্য আকর্ষণ হলো পর্বতমালার ভেতর দিয়ে চলাচল করা ট্রেন। এই ট্রেন থেকে দেখা যায় রকি পর্বতমালার অনন্য সৌন্দর্য।

 

324 total views, 1 views today

Share This:

Submit Your Comments

x

Check Also

"Fellowship in USA"

নিউজিল্যান্ডে বিনা খরচে পড়াশোনা, প্রতি সপ্তাহে ২৭ হাজার টাকা

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড সরকার। বিনা খরচে পড়াশোনার ...